
বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর অধস্তন প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, তেল খাত দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাত; এখানে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।
তিনি আজ কে ইপিজেড সংলগ্ন কাসাব্লাঙ্কা রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্টর সভাপতি আবু নাঈম সুজনের সভাপতিত্বে সহসভাপতি জাহেদুল আলমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের আমীর মুহাম্মদ ইউসুফ,সহ-সভাপতি জুনায়েদ চৌধুরী, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পদ্মা সিবিএ এর সভাপতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন।
আরো উপস্থিত ছিলেন এলপিজি লি: এর সিবিএ সাধারণ সম্পাদক জনাব তাবিরুল ইসলাম,সেক্টর সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সেলিম,মুহাম্মদ ইমরান হোসাইন,সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেড-এর আধুনিকায়ন ও বর্ধিতকরণ প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এখনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রিফাইনারীকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থেকেই রিফাইনারীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তেল সেক্টরের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে চুক্তিনামা সম্পাদন করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা সময়ের দাবি।
বেতন-ভাতা, নিয়োগ, বদলি এবং বিশেষ করে পদোন্নতি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মারাত্মক বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই প্রতিষ্ঠানে সমান দায়িত্ব পালন করেও অনেক শ্রমিক প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরনের বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান আত্মসংযম, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাস। এই মাস আমাদের শিখায়—অন্যের অধিকার হরণ নয়, বরং হক আদায়ে সচেষ্ট হতে। কর্মক্ষেত্রেও রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অয়েল সেক্টরে সব ধরনের বৈষম্য ও অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার এখনই সময়।