
মো. শাহজাহান,
জুলাই সনদে বতর্মানে বিদ্যমান বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫৩ টি অনুচ্ছেদের মধ্যে শুধুমাত্র সংবিধানের ৪৮টি অনুচ্ছেদ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। বাকি ১০৫টি অনুচ্ছেদ আগের মতোই বহাল থাকবে এবং কোনো ধরনের পরিবর্তন হবে না। তাই সেগুলো সনদে রাখা হয়নি। বিসমিল্লাহ’তে কোনো পরিবর্তন আসবে না, আগের মতোই ‘বিসমিল্লাহ’ সংবিধানে বহাল থাকবে। তাই ‘বিসমিল্লাহ’ সনদে উল্লেখ করা হয়নি। বরং সংবিধান সংস্কার কমিশন ৯১টি দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করে জানিয়েছিল ৭১টি দেশের সংবিধান আল্লাহর নামে, ঈশ্বরের নামে, সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু হয়েছে। তাই বিসমিল্লাহ এবং পরম করুণাময়ের নামে সংবিধানের শুরু করা বৈষম্যমূলক নয়। (রিফর্ম ডট গভ ওয়েবসাইটে এর বিস্তারিত পাবেন)
পর্যালোচনা অনুযায়ী ৩৮টি দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম বা ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে। তাই রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেওয়ার কোনো সুপারিশ সংস্কার কমিশনের ছিলো না।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ফরমানবলে সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করেন। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এর বৈধতা দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত তা ছিল। ২০১১ সালে শেখ হাসিনার সরকার ৮ অনুচ্ছেদ থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দেয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রতিবেদনে মূলনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের তিন লক্ষ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নতুন করে যুক্ত করার সুপারিশ করেন। আর ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে বহুত্ববাদ যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তবে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল বহুত্ববাদে আপত্তি জানায়।
ফলে জুনে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার সংলাপে বহুত্ববাদ বাদ যায়। তখন কমিশন প্রস্তাব করেন ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে মূলনীতিতে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ যুক্ত হবে। এতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ২৪টি দল একমত হয়। বামপন্থি ছয়টি দল বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি অর্থাৎ বর্তমানে থাকা মূলনীতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেয়।
বিএনপি, জামায়াতসহ ১১টি দল প্রস্তাব করে—মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ও পুনর্বহাল করতে হবে। তখন আলোচনা হয়—প্রস্তাবকারী কোনো দল বা জোট যদি বিষয়টি ইশতেহারে রাখে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তা আগামী সংসদে বাস্তবায়ন করতে পারে। (সনদের পৃষ্ঠা ৫, প্রস্তাব ৭)
এখন প্রশ্ন হলো—না ভোট দিলে কি সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরে আসবে? উত্তর হলো—না। বরং হ্যাঁ ভোট না দিয়ে যদি না ভোট জয়ী হয়, তাহলে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরে আসবে না। কারণ ২০১১ সালে হাসিনা সরকার এটি বাদ দিয়েছিল। তাই না ভোট জয়ী হলে আমরা আবার হাসিনার সংবিধানে ফিরে যাবো, যেখানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ নেই।
সোজা করে বললে—হ্যাঁ ভোট জয়ী হলেই সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ মূলনীতিতে আবার ফিরে আসার পথ তৈরি হবে। যারা সংসদে যাবে, তারা এটার বাস্তবায়ন করবে।
আর না ভোট জয়ী হলে আগের মতোই থাকবে, আর ওই সংবিধানে শহীদ জিয়ার সংযোজন ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ থাকবে না।
আমার মাথায় ধরে না— অতিপন্ডিতরা কি বুঝে “না” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়!
বরং গণভোটে “হ্যা” জয়যুক্ত না হলে ভবিষ্যতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবৈধ বলে সাবস্ত হতে পারে! অনেকের প্রশ্ন গণভোটে “হা” ভোট দেওয়ার জন্য সরকার কেন রাষ্ট্রীয় অর্থে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে? তার উত্তর হলো গণভোট ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কোন প্রাতিষ্ঠানিক আইনী ভিত্তি নেই। এমনকি আপনি / আমি ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যেই ভোট প্রদান করবো এবং পরবর্তী যেই সরকার গঠন হবে তারও আইনি ভিত্তি থাকবেনা। তাই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “হা” ভোটের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজ করা। “হা” ভোট কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের নয়। বরং “হা” ভোটের মাধ্যমে ফ্যসিবাদকে সাংবিধানিক ভাবে না করে দেওয়া।
গণভোটে কেন “হা” ভোট দিবেন সংবিধানের সংশোধনীয় অনুচ্ছেদ গুলো জানতে গণভোট ডট বিড ভিজিট করুন।
লেখক, সম্পাদক বাংলা রিভিল।