
শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এক অলৌকিক, গৌরবময় ও শিক্ষণীয় রজনী। এই রাত এমন একটি ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা মানব ইতিহাসের সীমা ভেঙে আল্লাহর কুদরতের বাস্তব প্রমাণ হিসেবে চিরকাল অম্লান হয়ে আছে। শবে মেরাজ শুধু একটি ভ্রমণের ঘটনা নয়; বরং এটি ঈমান, আকিদা, সালাত ও নবুয়তের সত্যতার এক শক্তিশালী দলিল।
মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামী পরিভাষায়, রাসূলুল্লাহ এর মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে আসমানসমূহ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত ভ্রমণকেই ইসরা ও মেরাজ বলা হয়। এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল হিজরতের প্রায় এক বছর আগে, এমন এক সময়ে যখন নবিজি চরম দুঃখ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। খাদিজা রা. ও আবু তালিবের ইন্তেকালের পর মক্কার কাফেরদের নির্যাতন আরও বেড়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবিকে সম্মান, সান্ত্বনা ও শক্তি দান করলেন এই মহিমান্বিত ঘটনার মাধ্যমে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্টভাবে ইসরা’র কথা উল্লেখ করেছেন—
“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে গিয়েছেন, যার আশপাশে আমি বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাই। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
(সূরা আল-ইসরা: ১)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে ইসরা ও মেরাজ কোনো কল্পকাহিনি নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংঘটিত বাস্তব ঘটনা। হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে, রাসূলুল্লাহ কে বুরাক নামক বাহনে করে প্রথমে বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি সমস্ত নবীদের ইমাম হিসেবে সালাত আদায় করেন যা তাঁর নবুয়তের সার্বজনীনতার প্রমাণ।
এরপর শুরু হয় মেরাজ থেকে আসমানে উত্তরণ। প্রথম আসমানে আদম (আ) থেকে শুরু করে দ্বিতীয় আসমানে (ঈসা) ও ইয়াহইয়া (আ) তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ) চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.) পঞ্চম আসমানে হারুন (আ) ষষ্ঠ আসমানে মূসা (আ) এবং সপ্তম আসমানে ইবরাহিম (আ)-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটে। এই সাক্ষাৎগুলো প্রমাণ করে যে সব নবীই একই সত্যের বাহক এবং ইসলামের আকিদা নবুয়তকে একসূত্রে গাঁথে।
এরপর রাসূলুল্লাহ পৌঁছান সিদরাতুল মুনতাহায় যেখানে ফেরেশতাদেরও গমন সীমা শেষ। সেখানে তিনি এমন নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই সে তার রবের মহান নিদর্শনসমূহের কিছু অংশ দেখেছে।”
(সূরা আন-নাজম: ১৮)
শবে মেরাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার হলো সালাত। এই রাতে আল্লাহ