
মোহাম্মদ শাহজাহান।
শাহাবাগীরা শেখ হাসিনার দোসর ছিলো, এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই। এরা হাসিনাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মদদ জুগিয়েছে। এবং শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হওয়ার পিছনে তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা অনেক বেশি ছিলো। তাদের কারণে আজকে আওয়ামীলীগের এই দূরবস্থা। সাধারণ অনেক আওয়ামী সমর্থক আছে, যারা এগুলো পছন্দ করতোনা। এদের কারণে তারাও মুখ দেখাতে পারেননা।
শাহবাগ পন্থী কিছু ছোট ছোট দল হয়তো জানতো আওয়ামীলীগের পতন হলে কোনো একসময় তাদের মতো ছোট দলে রূপান্তরিত হয়ে যাবে আওয়ামীলীগ, এবং তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। তারা আওয়ামীলীগকে তাদের সহযোগী বানাতে ব্যস্ত ছিলো। হাসিনা এটা বুঝতে পারেনি হয়তো। যার জন্য দেশটা তার বাপের মনে করে ইচ্ছে মতো গুম, খুন সহ পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থার অবকাঠামো ভেঙে ছারখার করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ধবংস করে দিয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে অসংখ্য মা- বাবার বুক খালি করেছে। তবে একটা কথা না বল্লেই নয়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিলো ৪ দলীয় ঐক্যজোটের আমল থেকেই, প্রাথ্যক্য ছিলো তারা তাদের নিজেদের সম্ভাবনাময়ী দলীয় নেতা কর্মীদের র্যাবের মাধ্যমে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে, আর আওয়ামীলীগ হত্যা করেছে প্রতিপক্ষকে। আমরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের গর্ব, অকুতোভয়ী ও যোগ্য নেতৃত্বের অধিকারী প্রিয় ভাই আহমদু ও মিনহাজের নাটকীয় ক্রসফায়ারের কথা ভুলিনি, রাউজান ও রাংগুনিয়ার অসংখ্য নিজ দলের নেতা কর্মীদের ক্রসফায়রের মাধ্যমে যে হত্যাকাণ্ড গুলো করেছে তাও দেখেছি। এমন ঘটনা সমগ্র বাংলাদেশেই ঘটেছে।
আমার কথায় হয়তো পক্ষে বিপক্ষের অনেকেই কষ্ট পাবেন, তবুও সত্যি বলতে কার্পণ্য বোধ করবোনা। কে কি ভাববে তা আমার কিছুই যায় আসেনা, সুতরাং আমরণ সত্য বলে যাবো ইনশাআল্লাহ।
ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়। তবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামীলীগ আবার ফিরে এসে সরকার গঠন করবে এই ধারণা নিয়ে যারা এখনো বসে আছেন, তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে কখনও আওয়ামীলীগ ফিরে আসলে কেমন হবে তা বাংলাদেশের কিছু ঐতিহাসিক ছোট ছোট দল আছে হয়তো তাদের দিকে তাকাতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বতর্মান ধারার রাজনীতিরও পরিবর্তন আসবে, নিশ্চিত থাকতে পারেন, আজ নাহয় কাল।
যারা শাহবাগীদের চিন্তা চেতনায় উজ্জীবিত তাদেরও যে একটা ভালো দিন আসবে তা ভাববার কোনো কারণ নেই। আশাকরি শাহবাগিদের বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হবে, তাদের বিচার হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
পরিশেষে অনুরোধ থাকবে সকল রাজনৈতিক দল ও দলের নেতা কর্মীদের প্রতি বর্তমান একদল আরেক দলকে গায়েল করার রাজনীতি থেকে নিজেদের ফিরিয়ে আনুন। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করুন, দেশকে ভালোবাসতে শিখুন। দেশপ্রেম নিয়ে নিজেদেরকে গড়ে তুলুন। অন্য দেশের তাবেদারী চিন্তা থেকে সরে নিজেদের যোগ্য নেতৃত্বের অধিকারী করে তুলুন। আধুনিক ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হোন। অন্যতায় কি হবে তা হয়তো সময় বলে দিবে।