
ডা.মো.শাহজাহান।
গত বছর ৫ আগষ্ট অর্থাৎ আজকের এদিনে জনগণের বিপ্লবের মূখে একটি স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর পতনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সুচনা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অন্তিম মুহূর্তে কত তাজা প্রাণ ঝরে গেলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মুরগির রক্ত দেখলে যেই ছেলে গুলো ভয় পেতো এমন অনেক ছেলে নিজের বুকটা পুলিশের সামনে হাত দুটি মেলে দিয়ে বলছিল আমাকে গুলি কর। আমরা স্বৈরশাসনের পতন না হওয়া পযর্ন্ত ঘরে ফিরে যাবোনা। ছোট্ট বাচ্চা ও শিশু সন্তানদের নিয়ে মা-বাবারা রাজপথে নেমেছিল এবং বলেছিল আমার সন্তানকেও রাষ্ট্রের জন্য উৎসর্গ করতে এসেছি।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে চতুর প্রান্তে তাজা রক্তের গ্রাণ, মুরাদপুর যখন রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছিল জুলাইয়ের ১৭ তারিখে আমি যেদিকে ছোখ রাখি সেদিকেই অপরিচিত শত শত ছাত্রদের মাথায় তাজা রক্ত দেখেছিলাম। কয়জনকে আর সামাল দেওয়া যায়! এক অস্থির পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে সেদিন।
সেদিনের ভয়াবহতার কথা মনে পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে। দুই নাম্বার গেইট এলাকায় আমার দিকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার কথাও ভুলে যায়নি।
পুলিশ সহ তখন রাষ্ট্রের অনুগত সন্ত্রাসীরা এমন বিভীষিকাময় দৃশ্য তৈরী করেছিল সাধারণ মানুষ সহ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিল সরকার পতনের আন্দোলনে।
আর আন্দোলন রূপ নিয়েছিল একটি ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লবে। পতন হলো এক দীঘি স্বৈরশাসনের সকল ক্ষমতা। তবে যেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ আন্দোলন করেছিল এবং পরবর্তী যেই রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলো তার ১০ শতাংশও পূরণ হয়নি এখনো। রাজনীতির নানাবিধ কৌশলে ব্যস্ত আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। আর শোডাউনে ব্যস্ত নেতা কর্মীরা। ক্ষমতার মোহ সবাইকে এতটাই অন্ধ করে দিয়েছে, সবাই বা সব দলের লোকরাই মনে করছে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারা, অথচ আওয়ামীলীগের আমলে ফেসবুকে ছাড়া কোনো জায়গাই আন্দোলনের ছিটেফোটাও দেখাতে পারেননি। আর এখন আন্দোলন সফলের হকদ্বার ও দাবীদ্বার নিয়ে কত কথা।
৫ আগষ্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাটে ১১টা থেকে আমি আমার মেজো (১১ বছরের) ছেলেকে নিয়ে ছিলাম। আন্দোলন করতে আসা দুইটা মানুষও দেখলামনা। অথচ এর আগের দিন সিদ্ধান্ত ছিলো রাজপথ দখলে রাখার। তবে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে সংবাদ যখন পেলাম কয়েকজন মাছ বিক্রেতা ও মুরগি বিক্রেতা সহ সাধারণ কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিলো, তাদেরকে নিয়ে আমি প্রথম মিছিল শুরু করি এবং মুরাদপুরের দিকে রওনা দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি সাধারণ মানুষের ঢল রাস্তায়। সবাই আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছেন। পরবর্তীতে দেখলাম রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
যাইহোক এই বিজয়ে একক কোনো রাজনৈতিক দল বা সমন্বয়কদের একক ভুমিকা নাই। ৫ আগষ্ট ছিলো ১৭ বছরে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্দ্ধ ও ইয়ামিনদের মতো সাহসী কিশোর, ছাত্র, তরুণরা যদি এগিয়ে না আসতো, কখনও গণ-অভ্যুত্থান সফল হতোনা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তার বক্তৃতায় বলেছেন, ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মেরজুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা। এই গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার শহীদ অন্তত চল্লিশ হাজার আহতদের সাথে যেনো বেঈমানী করা না হয় এই প্রত্যাশায় থাকবো।